নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার রুটি ও বিস্কুটে উচ্চ ভ্যাট অব্যাহত রাখায় দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বৈষম্যমূলক করনীতির পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা ও ভ্যাট’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়। সরকারের বর্তমান করনীতি দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ও ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্ক (ওয়াইপিএন) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের হেড অব রিসার্চ কেএম ইমরুল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ সংকর সাহা, ওয়াইপিএনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আকবর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাপসী রাবেয়া এবং বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের হেড অব রিসার্চ কেএম ইমরুল হাসান।
ওয়াইপিএনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘সরকার রুটি ও বিস্কুট থেকে বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করে অথচ এ করের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।’
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা উচিত কিনা, তা নিয়ে একটি মৌলিক বিতর্ক সবসময়ই থাকবে। করনীতি প্রণয়নে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি সরকারের ঋণনির্ভরতা কমানো, বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘সহজে রাজস্ব আদায়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর আরোপ একটি “বদভ্যাস” হতে পারে। তবে দেশের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের গুরুত্ব এবং ঋণনির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটি। সরকার বুঝতে পেরেছে যে ভ্যাট দরিদ্র মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তখন রুটি-বিস্কুটের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আদর্শ ভ্যাট ব্যবস্থায় (যেখানে ইনপুট ক্রেডিট সুবিধা থাকে) ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটও অযৌক্তিক এবং সিস্টেমের প্রক্রিয়াগত ও ডিজিটাইজেশনের ত্রুটির কারণে এমনটা হচ্ছে।’